Monday, October 31, 2016

ক্লোনিংঃ বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ ও জীবনের চরম বাস্তবতা

আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেক সহজসাধ্য হয়ে গেছে। আমরা ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোন প্রান্তের খোঁজ খবর নিতে পারি, যায়গায় বসে যেকোন কিছু নিয়ন্ত্রন করতে পারি, বিশাল বিশাল স্কাইস্ক্রাপার বানাতে পারি, অসিম মহাবিশ্বের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারি।
আর এ সবের পেছনেই রয়েছে একটা   জিনিস- বিজ্ঞান। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে তার সাথে উন্নতিও এনে দিয়েছে। আসলে সৃষ্টির শুরু থেকেই বিজ্ঞানের শুরু। তবে যদি বলতে তাহলে বলব যে, আমাদের চিরায়ত বিজ্ঞানের শুরু হয় দুটি স্পার্কের মাধ্যমে। অর্থাৎ আদিম মানুষের পাথরের সাথে পাথরের ঘর্ষণে। জ্বলে উঠে আগুন। সেই থেকে শুরু আমাদের পরম বন্ধু বিজ্ঞানের।
তবে বিজ্ঞানের কিছু মন্দ দিকও রয়েছে বটে। আসলে আমি তা মনে করি না। মানুষ বিজ্ঞানের মন্দ দিক বলতে পারমাণবিক বোমা, একে ৪৭ সহ বিভিন্ন জিনিসের উদাহরন দিয়ে থাকে। কিন্তু এগুলো বিজ্ঞানের মন্দ দিক মানতে আমি রাজি না। মূলত এগুলো হল মানুষের মন্দ দিকের ব্যবহার। তো যাই হোক, বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিকের চরম উনতি এনে দিয়েছে। তবে বিজ্ঞানের অসংখ্য শাখার মধ্যে একটি শাখা আমাদেরকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপকার করেছে, বাঁচিয়েছে অসংখ্য জীবন, বাড়িয়েছে গড় আয়ু। আর সেই শাখাটা হল চিকিৎসা বিজ্ঞান।
অনেক মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে আজকের চিকিৎসাবিজ্ঞান। একে উন্নত করতে গিয়ে অনেক বিজ্ঞানী নিজের সন্তানকেও উৎসর্গ করেছে, তাদের উপর প্রয়োগ করেছে বিভিন্ন ভ্যাক্সিন। আর বিজ্ঞানের এই শাখারই বর্তমানের আলোচিত বিষয় হল ‘ক্লোনিং’। ক্লোনিং এর ইতিহাস একেবারেই আধুনিক না হলেও ৭০-৮০ বছরের আগের। এর উদ্দেশ্য অবশ্যই মানুষের উপকার করা। তবে সব কিছুর সাথে এরও কিছু অপকারের কথাও আসে। তো চলুন যানা যাক ক্লোনিং নিয়ে।
  • ক্লোনিং কি?: ক্লোনিং শব্দটা এসেছে একটা গ্রীক শব্দ থেকে। শব্দটা হল trunk brunch; যার অর্থ শাখা থেকে শাখা সৃষ্টি। আমরা সবাই টিস্যু কালচার নিয়ে নিশ্চই জানি। এ পদ্ধতিতে একটা মাতৃ উদ্ভিদ থেকে একটা কোষ নিয়ে একে জীবাণুবর্ধক মিডিয়ামে রাখা হয় এবং উপযুক্ত পরিবেষে কালচার করে এক কোষ থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি করা হয়। ক্লোনিং বিষয়টাও অনেকটা এরকম। তবে এখানে কালচারের সাথে ডিএনএ প্রযুক্তিরও ব্যবহার করা হয়। ক্লোনিংকে সাধারনত ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
১. থেরাপিউটিক ২. রিপ্রোডাকটিভ
বর্তমানে আরো এক প্রকার ক্লনিং এর ব্যাপারে জানা যায়। তা হল রিপ্লেসমেন্ট। এই ক্লোনিং পদ্ধতিতে দেহের কোন ক্ষতিগ্রস্থ কোষকে রিপ্লেস করে ভালো কোষ দিয়ে স্থানন্তর করা হয়। এটা মূলত ঐ দুই প্রকারকে কেন্দ্র করেই করা হয়। এখন দেখা যাক থেরাপিউটিক আর রিপ্রোডাকটিভ বিষয়টা কি?
থেরাপিউটিকঃ এ পদ্ধতিতে সাধারণত কোন নির্দিষ্ট কোষের ক্লোন করা হয়। মূলত চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঔষধ তৈরিতে এ ক্লোনিং কাজে লাগে। এভাবে তৈরি কোষ পরবর্তীতে প্রাণীর দেহে বেড়ে উঠতে পারে। তাছাড়া গবেষণা ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার রয়েছে। অর্থাৎ স্টেম সেল তৈরির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করে এভাবে হার্টের যেকোন সমস্যা ও আলঝেইমার রোগ নিরাময় সম্ভব হবে।
রিপ্রোডাকটিভঃ ক্লোনিং এর এ বিষয়টা নিয়েই অনেক জল্পনা কল্পনা। যে পদ্ধতিতে কোন প্রাণীর একটি দেহ কোষকে নিয়ে তাকে উপযুক্ত পদ্ধতিতে কালচার করে হুবুহু মাতৃ প্রাণীর মত করে তৈরি করা হয়, তাকেই রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোনিং বলে। মূলত এখানে পুরো জিবের জীনমের ক্লোনিং করা হয়। এ পদ্ধতিটা বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ। আমাদের আজকের আলোচনা ক্লোনিং এর পদ্ধতি নিয়েই।
 
  • ক্লোনিং কিভাবে করে?: আসলে এখানে রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোন কিভাবে করা সে বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হবে। রিপ্রোডাক্টিভ পদ্ধতিতে প্রাণীর দেহ কোষ ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে তিনটা উপাদান প্রয়োজন। এগুলো হল ১. কোষের নিউক্লিয়াস ২. কেন্দ্র বিযুক্ত কোষ ৩. পোষক। প্রথমে একটি কোষ থেকে কেন্দ্রিকাটিকে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে অন্য একটি কোষের কেন্দ্রকে ঐ কেন্দ্র বিযুক্ত কোষে স্থাপিত করা হয়। এটা করা হয় ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে। পরে সেই কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পূর্ণ জীবে পরিনত হয়। অবশ্য এভাবে উৎপাদন করা হলে উৎপাদিত প্রানিটি হুবুহু মাতার মত হয় না। তবে যদি টিস্যু কালচারের মত করে যদি একটি কোষ থেকে ভ্রুন উৎপন্ন করে তা থেকে প্রাণীটিকে তৈরি করা হয় তাহলে আচার আচরনে তা হুবুহু মাতৃ উদ্ভিদের মত হবে।

মানব ক্লোন পদ্ধতি
  • ক্লোনিং এর সফলতাঃ আমরা যদি ক্লোনিং এর সফল দিকের কথা বলি তাহলে আশ্চর্যই হতে হবে। কারন এ পর্যন্ত ক্লোনিংএ ব্যাপক সফলতা পাওয়া গেছে। আর একে পুরনাংগ করেছে ‘ডলি’ নামক এক ভেড়ার ক্লোনের মাধ্যমে। সেই ৫ জুলাই, ১৯৯৬ সালের এডিনবার্গের কেইথ ক্যাম্পবেল, রোসালিন ইন্সটিটিউটের প্রফেসর প্রফেসর ডক্টর আয়ান উইলমাট একটি ভেড়ার ডিম্বানু, ডিএনএ ও পোষক ব্যবহার করে ভেড়ার ক্লোন করে আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলে। অবশ্য এর ঘোষনা দেয়া হয় ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ এর দিকে। তারা যেই ভেড়াটির ক্লোন করেছিল তার জীবনকাল আশা করা হয়েছিল ১২-১৩ বছর। একটি ভেড়া সাধারন গড় বয়স ১১-১৩ বছর। কিন্তু ভেড়াটি ফুসফুস কান্সারে সাড়ে ৬ বছর বয়সে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ সালে মারা যায়। তাছাড়া ক্লোনিং এর ক্ষেত্রে আমরা আরো অনেক সফলতার ব্যাপারে জানি। এত কিছুদিন আগেও ২৪ এপ্রিল, ২০০৫ সালে স্নাপি নামক এক কুকুরের ক্লোন করা হয় যা এখনো দিব্যি বেচে আছে। এছাড়াও ১৯৬০ এর পরে ব্যাঙ, খরগোশ সহ অনেক প্রানীরই সফল ক্লোনিং করা সম্ভব হয়েছে।

ডলির ক্লোন
  • ক্লোনিং এর কিছু সমস্যাঃ ক্লোনিং এর ক্ষেত্রে অনেক উপকার হলেও এর কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন আমরা দেখতে পেয়েছি যে ‘ডলি’ তার আশানুরুপ জীবনকাল পায়নি। সে তার অর্ধেক বয়সেই মারা যায়। আবার জানা যায় যে ডলিকে যে ভেড়া থেকে ক্লোন করা হয়েছে তার বয়স নাকি ৬ বছর ছিল। আসলে ক্লোন করার সময় কোষের কেন্দ্রিকা ব্যবহার করা হয়। তাতে যে ক্রোমোজোম থাকে তার শেষ প্রান্তে থাকে টেলোমিয়ার। কোষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং বিভাজন সঙ্খার উপর নির্ভর করে ঐ টেলোমিয়ারের দীর্ঘ কমতে থাকে। এই টেলোমিয়ার শেষ হয়ে গেলে কোষ মারা যায় ফলে জীবও মারা যায়। আসলে টেলোমিয়ার নিঃশেষ হয়ে গেলে কোষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং কোষের বিভাজনে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ফলে জীব বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায়।এগুলো ছাড়াও ক্লোনিং এর ক্ষেত্রে আরো বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। অবশ্য বিজ্ঞানীরা এইগুলো নিয়ে কাজ করছেন। এবং টেলোমিয়ারের সমস্যাটা তারা সমাধানও করে ফেলেছে। আবার কেউ যদি ক্লোনিংকে বাজে কাজে ব্যবহার করে তাহলে এর ভয়াবহতাও হবে চরম আপত্তিকর। আমরা যদি জাফর ইকবাল স্যারের ‘এনিম্যান’ কল্পকাহিনীটা পড়ি তাহলে কিছুটা আন্দাজ করতে পারব। ওখানে আমরা দেখতে পাই যে মানুষের সাথে কুকুরের সংকর করা হয়েছিল। তবে হয়ত এর বাস্তবতা নেই, তবুও আমরা কিছুই বলতে পারি না। ক্লোনিং এর ক্ষেত্রে আরো একটা বড় সমস্যা রয়েছে। এটা হল নৈতিকতা নিয়ে। মনে করুন, ক্লোনিং করে একজন ব্যক্তির ক্লোন করা হল। এখন সমস্যা হচ্ছে যে তার বংশ পরিচয় কি হবে, ধর্ম কি হবে, তার পিতা-মাতা এসব। অবশ্য এগুলোর এখোনো কোন সমাধান পাওয়া যাই নি। তবুও এটা বলতেই হবে যে আমরা আশাবাদি।

স্নাপি- প্রথম ক্লোন করা কুকুর
  • ক্লোনিং ও আরো কিছুঃ ডলির যে ক্লোন করা হয়েছিল সেটা ২৭৬ তম বারে সম্ভব হয়েছিল।  তার আগের বার সবগুলো ভ্রুনই নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে মানুষের ক্ষেত্রে ক্লোন করা হলে এই ঘটনার পুরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠে। ক্লোন মানব শিশুর জন্ম নিঃসন্দেহে পৃথিবীতে এক অন্যতম বিরল ঘটনা হবে। তবে ডেনমার্ক ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই মানুষের ক্লোন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ এ ব্যাপারে আইন পাশ করেছে। তবুও গুঞ্জন শোনা যায় যে পৃথিবীর অনেক স্থানেই গোপনে মানব ক্লোনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার অনেকে দাবিও করেছে যে তারা তাকি মানব ক্লোন করেছে। তবে এর কোন বৈজ্ঞানিক প্রমান পাওয়া যায় নি।২০০২ সালের ২৭শে ডিসেম্বর  ক্লোনাইড নামক একটি প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে তারা প্রথম ক্লোন মানব শিশু তৈরি করেছে কিন্তু তারা এ সম্পর্কিত কোন তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে যতদূর জানা যায়, এই মানব ক্লোনটি  তৈরি করেছে একটি ৩১ বছর বয়স্ক মহিলার কোষ থেকে এবং এটি করা হয়েছে আমেরিকার বাইরে কোন উন্নয়নশীল দেশে, কারণ হিসাবে বলা হয় মহিলাটির স্বামী প্রজননে অক্ষম ছিল।  এরপর ২০০৩ সালের ২৩শে জানুয়ারি ক্লোনাইড দাবি করে তারা আরো একটি মানব শিশু ক্লোন করেছে  জাপানের ২ বছর বয়সের এক বাচ্চার কোষ থেকে যে ২০০১ সালে অ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়, যদিও এ ব্যাপারে আর কোন তথ্য তারা প্রকাশ করেনি। আবার এক মার্কিন চিকিৎসক পানাইওটিস জাভোস বলছেন যে তিনি ১৪টি মানব ভ্রূণ ক্লোন করেছেন।
  • সাইপ্রাস বংশোদ্ভুত মার্কিন এ নাগরিক জাভোস মধ্যপ্রাচ্যে গোপন কোনো স্থানে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশে মানব ক্লোন নিয়ে গবেষণা নিষিদ্ধ। তবে তিনি ইতিমধ্যে তিনজন মৃত মানুষের ভ্রূণের ক্লোনও করেছেন। এদের মধ্যে ১০ বছরের একটি শিশু ছিল। কাডি নামের এ শিশুটি যুক্তরাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল। শিশুটির রক্তের কোষ বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে জাভোসের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা জাভোসের এসব দাবি মানতে নারাজ।প্রথম হাইব্রিড মানব ক্লোনটি করা হয় ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে। এটি করা হয় অ্যাডভান্স সেল টেকনোলজির (ACT) মাধ্যমে, এবং এক্ষেত্রে মানুষের পায়ের কোষ থেকে নিউক্লিয়াস নিয়ে কুকুরের ডিম্বাণুতে প্রতিস্থাপন করা হয় কিন্তু এটা ১২ দিনের মাথায় নষ্ট করে ফেলা হয়। এরপর ২০০৮ সালের জানুয়ারীতে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্টিমাজেন কর্পোরেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্যামুয়েল উড এবং অ্যান্ড্রিউ ফ্রেঞ্চ ঘোষণা দেন তারা থেরাপিউটিক ক্লোনিং এর লক্ষ্যে ৫ টি মানব ভ্রূণ তৈরি করেছে কিন্তু পরবর্তীতে তারা নৈতিকতার দিক বিবেচনা করে ভ্রুন ৫ টি নষ্ট করে ফেলে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে কিছু বিজ্ঞানী মানব ক্লোনিং কে ব্লাস্টোসাইট ধাপ পর্যন্ত নিয়ে যেতে সফল হন।

একটা জোক্স
  • ক্লোন নিয়ে কিছু চিন্তা ভাবনাঃ আচ্ছা আপনার পাশেই যদি ঠিক আপনার মত আর একজনকে দেখেন তাহলে আপনার কেমন লাগবে! আমরা এতক্ষনে নিশ্চই বুঝতে পেরেছি যে, বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের যা উন্নতি হয়েছে তাতে এমন হওয়া অসম্ভব কিছু না। আবার অনেকেই মনে করে থাকেন আন্সটাইনের ক্লোনিং এর কথা। তারা মজা করে বলেন যে, আইন্সটাইনকে যদি আবার ক্লোন করা যেত তাহলে ভালোই হত। তাকে দিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের বাকি সমস্যাগুলো সমাধান করিয়ে নেয়া যেত। কিন্তু এখানে মনে রাখা জরুরী যে, আইনস্টাইনের যে কোষ সংরক্ষিত আছে তা থেকে তাকে তৈরি সম্ভব হলেও যে আইনস্টাইন তৈরি হবে তা যে আগের আইনস্টাইনের মতই হবে তার কোন সম্ভাবনা নেই। হয়ত বুদ্ধি বৃত্তির দিক থেকে এক হবে কিন্তু পরিবেশ এক না হলে সে ঐ আগের আইনস্টাইনের মত হবে না।কারন মানুষের সব কিছুই নির্ভর করে তার পরিবেশের উপর। অর্থাৎ এর কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আবার এই একই কথা কোন কুখ্যাত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অনেকে ক্লোনিং এর খারাপ দিকের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ক্লোনিং এর মাধ্যমে কোন সিরিয়াল কিলার বা কোন কুখ্যাত ব্যক্তিকে ক্লোন করা হলে তা মানব জাতির ক্ষতির কারন হবে। তবে এটা মনে রাখতে হবে যে একজন সিরিয়াল কিলার যে পরিবেশের স্বীকার হয়ে কিলারে পরিনত হয়, ঐ ক্লোনিং ব্যক্তি যদি সেই পরিবেশ না পায় তাহলে সে কখনোই সিরিয়াল কিলারে পরিনত হবে না। অতএব এই আশংকা না করাই উচিত। আবার আরেকটা আশঙ্কার কথা বাদ দেয়ার কোন উপায় নেই। সেটা হল প্রকৃতি শুধু মেয়েদেরই পুরনাঙ্গ ভাবে তৈরি করেছে। ক্লোন করতে যা যা লাগে তার সবই মেয়েদের আছে। কিন্তু পুরুষের নেই। তাই মহিলারা যদি বিপ্লব করে বসে তাহলে পৃথিবী থেকে পুরুষের বিলুপ্তি হবার আশঙ্কাও করা যায়। তবে তা সুদুর ভবিষ্যতের ব্যাপার। তবে একে বাদ দেয়ারও কোন অবকাশ নেই।

প্রাকৃতিক ক্লোন
  • মানব কল্যাণে ক্লোনঃ ক্লোনিং নিয়ে অনেকে অনেক আশঙ্কা করলেও একে সরাসরি মানুষের উপকারেও কাজে লাগানো যায়। আমরা যদি পুরো মানুষের ক্লোন না করে নির্দিষ্ট অঙ্গের ক্লোন করি তাহলে তা মানুষের উপকারে কাজে লাগানো যাবে। যেমন ক্লোন করে মানুষের দেহের প্রয়োজনীয় অঙ্গ হাড়, হৃদপিণ্ড, চোখ, রক্ত, কিডনি এসব ক্লোন করে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের দেহে স্থানন্তর করে তার প্রান দেয়া সম্ভব। আবার মনে করুন অ্যাকসিডেন্টে আপনার কোন প্রিয়জন মারা গেলেও তাকে আবার ক্লোন করা যাবে। যদিও তা এখনো কল্পবিজ্ঞানের মতই ঠেকে। তবে ভবিষ্যতে কি হবে তা এখনো অজানা।

প্রাণী কোষের নমুনা
শেষে একটা কথাই বলতে চাই যে, সবকিছুরই ভালোমন্দ আছে। এর ভাল মন্দের বিষয়টা নির্ভর করে মানুষের ব্যবহারের উপর। পরমানু প্রযুক্তি মানুষের যেমন প্রভূত উপকারে আসে তেমনি ক্ষতিও করতে পারে। এটা আমাদের নৈতিকতার বিচার। তাই আশা করি আমরা ক্লোনিংকে ভালো দৃষ্টিতেই দেখব। এবং মানব কল্যাণে ব্যবহার করে তাকে উন্নতির চরম শেখরে পৌছতে সহায়তা করব। হয়তবা ক্লোনিংই হবে আমাদের ভবিষ্যৎ! ৫ শ বছর আগে যেমনি আমরা ইন্টারনেট সম্পর্কে ভাবতে পারি নি, হয়ত এখনো এই ব্যাপারটাও আমাদের ভাবনার বাইরে। কারন আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুণোত্তর ধারার গতিতে প্রতি নিয়ত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানকে ভালোবাসুন, বিজ্ঞানের সাথে থাকুন।
সৌজন্যে: ওমেগা প্রাইম

0 comments: